আমাদেরবাংলাদেশ ডেস্ক।।
রাজধানীর শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজীব (১৭) ও একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম (১৬) নিহতের ঘটনায় করা মামলায় জাবালে নূর পরিবহনের দুই চালকসহ তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মালিক জাহাঙ্গীর আলম ও হেলপার এনায়েতকে খালাস দেন
আদালত।
আজ (রোববার) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ইমরুল কায়েশ এ রায় ঘোষণা করেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।
যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- দুই চালক মাসুম বিল্লাহ ও জুবায়ের সুমন এবং তাদের সহকারী কাজী আসাদ। কাজী আসাদ পলাতক।
এ মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে সাংবাদিকদের প্রতি বিচারক ইমরুল কায়েশ বলেন, এ মামলাটি পেনালকোডের ৩০৪ ধারা হয়েছে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। এর চেয়ে বেশি শাস্তি দেয়ার সুযোগ নেই। আপনারা সংবাদগুলো এমনভাবে প্রচার করবেন যাতে ছাত্রসমাজ ও জনগণের মধ্যে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি না থাকে।
আদালত বলেন, পরিবহন সেক্টরে অনেক খামখেয়ালিপনা দেখা যায়। বাসের বেপরোয়া চলাচলের কারণে চাকার নিচে পিষ্ট হওয়া
থেকে রেহাই পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরাও। এ ঘটনায় ট্রাফিক পুলিশকে সচেতন হতে হবে।
বিচারক আরও বলেন, মালিকরা চালকদের একটা নির্দিষ্ট জমা টাকা টার্গেট দেয়। যেটা তাদের জটিল হয়। এ কারণে মালিকদের খুশি করতে বেপরোয়া চালায়। মালিকদেরও সচেতন হতে হবে। চালক ইচ্ছাকৃতভাবে দুই শিক্ষার্থীর উপর বাস তুলে দেয় বলে পর্যবেক্ষণে জানায় আদালত।
উল্লেখ্য, রাজীব-জিয়ার মৃত্যুর পর থেকে তার শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তদের ফাঁসি চেয়ে আন্দোলন করছেন। এছাড়া সম্প্রতি রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আসামিদের মৃত্যুদণ্ড শাস্তি চেয়েছেন।
এর আগে ১৪ নভেম্বর রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ইমরুল কায়েশ ১ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন।